ক্রিকেটকে বদলে দেয়া টুর্নামেন্ট যেদিন প্রথম মাঠে গড়িয়েছিল

 


ইতিহাসের পাতায়


ক্রিকেটের ইতিহাসে ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেট একটা বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। বলা চলে ক্রিকেটের আধুনিকায়ন এই নিষিদ্ধ সিরিজ থেকেই শুরু হয়। রঙিন পোশাক আর সাদা বল, সেই সঙ্গে ডে-নাইট ওয়ানডে ফরম্যাটের ক্রিকেটে দিয়ে ক্যারি পেকার আমূল বদলে দিয়েছিল ক্রিকেটের গতিপথ। সেই ক্যারি পেকারের ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেটের বছর ত্রিশেক বাদে ক্রিকেটে আরেক বিপ্লব ঘটে। ক্রিকেটকে বৈশ্বিকhttps://www.facebook.com/md.rakibhossain.9693?mibextid=ZbWKwLভাবে বাণিজ্যিক সাফল্যে এনে দিতে যে টুর্নামেন্ট রেখেছে বড় ভূমিকা।

কলকাতা নাইট রাইডার্স ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ম্যাচ দিয়েই মাঠে গড়িয়েছিল আইপিএলের প্রথম আসর। 

টেস্ট ক্রিকেটকে বলা হয় ক্রিকেটের ধ্রুপদী সংস্করণ। সবচেয়ে অভিজাত ধারা এটাই। আর ওয়ানডে ক্রিকেট দিয়েছিল নতুন এক ক্রিকেটের স্বাদ। স্ট্রোকের ফুলঝুরি, রঙিন পোশাক আর সাদা বলে ক্রিকেট আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বাণিজ্যিকভাবেও অনেকটা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে খেলাটা। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে নতুন কিছুর চাহিদা তৈরি হচ্ছিল। আর তার প্রেক্ষিতেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আগমন। ২০০৭ সালে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়। আর সেই টুর্নামেন্টে আনকোরা দল নিয়েই শিরোপা জিতে নেয় ভারত। সেদিনই আসলে ক্রিকেটের গতিপথ বদলে গেছে।


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর ক্রিকেট পাগল ভারতীয়দের মধ্যে টি-টোয়েন্টি আলাদা ক্রেজ তৈরি করে। আর সেই চাহিদা পূরণ করতেই হাজির হয় প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ- ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএল। আর এই আইপিএল চিরদিনের মতো বদলে দিয়েছে ক্রিকেটকে। ক্রিকেটের ইতিহাসকে এখন চাইলেও দুইটা সময়ে ভাগ করা যায় - আইপিএল পূর্ব ক্রিকেট ও আইপিএল পরবর্তী ক্রিকেট।


 

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ঝড় তুলেছিলেন ম্যাককালাম। ছবি: সংগৃহীত

আরও পড়ুন: আইপিএলে ‘বেশি রান’ হওয়ায় বল পরিবর্তনের দাবি ভোগলে ও গম্ভীরের


২০০৭ সালে জি ইন্টারটেইনমেন্ট নিয়ে আসে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের প্রথম প্রাইভেট টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগ (আইসিএল)। ভারত-পাকিস্তান ও বাংলাদেশের আঞ্চলিক নয়টি দল নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টকে অবশ্য ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) অনুমোদন দেয়নি। ক্যারি পেকারের মতো আইসিএলও বিদ্রোহী ক্রিকেট লিগের তকমা পায়। এই টুর্নামেন্টে খেলার জন্য নাম লেখানো খেলোয়াড়দের সেইসব দেশের ক্রিকেট বোর্ড নিষিদ্ধও করেছিল সে সময়। ২০০৭ সালে শুরু হয়ে ২০০৯ সালেই বন্ধ হয়ে যায় আইসিএল।


আইসিএলের মৃত্যু হলেও ধারণাটা কাজে লাগায় বিসিসিআই। ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগের আয়োজন করে তারা। ভারতীয় ক্রিকেট সংগঠক লোলিত মোদীর ব্রেইনচাইল্ড আইপিএল মাঠে গড়াতেও অসম্ভব জনপ্রিয়তা পায়। ধুমধাড়াক্কা ক্রিকেটের সঙ্গে চোখ ধাঁধানো গ্ল্যামারে বাণিজ্যিকিকরণের চূড়ান্ত রূপ দেখে ক্রিকেট। অর্থের ঝনঝনানিতে সারা বিশ্বের সেরা ক্রিকেটারদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে টুর্নামেন্টটি। ক্রিকেটের মানচিত্রে ভারত পেয়েছে একক আধিপত্য।


 

আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম ম্যাচসেরা হয়েছিলেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। প্রথম সেঞ্চুরিও তারই করা। ছবি: সংগৃহীত

আইপিএল কতোটা প্রভাবশালী লিগে পরিণত হয়েছে তা বুঝতে একটা তথ্যই যথেষ্ট। এই ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের জন্য আইসিসিকে ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামে আলাদা করে জায়গা করে দিতে হয়েছে। আইপিএলের সময় আইসিসির বড় কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয় না। এমনকি বড় দলগুলো কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলা থেকেও বিরত থাকে।

এবারের আইপিএলের শিরোপা জেতার মন্ত্র বলে দিলেন পন্টিং


আইপিএলের কারণে ক্রিকেটে বড় পরিবর্তন এসেছে। টুর্নামেন্টটির জনপ্রিয়তা ও আর্থিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রায় সব কয়টি টেস্ট খেলুড়ে দেশ নিজস্ব ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট চালু করেছে। এমনকি আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মতো আইসিসির সহযোগী দেশগুলোতেও এমন টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হচ্ছে। আর এতো এতো টুর্নামেন্টের মাঝে জাতীয় দলের খেলা আয়োজন করাই বোর্ডগুলোর জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এমন বাস্তবতায় প্রায়ই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে - দেশ বড় নাকি ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি। টি-টোয়েন্টির দাপটে ওয়ানডে ক্রিকেট এখন মৃত্যুপথযাত্রী।


ক্রিকেটকে বদলে দেয়া আইপিএলের প্রথম ম্যাচটি মাঠে গড়িয়েছিল আজ থেকে ঠিক ১৬ বছর আগে। ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। উদ্বোধনী ম্যাচটায় ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়ে স্মরণীয় করে রেখেছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। মাত্র ৭৩ বলে ১০টা চার ও ১৩টা ছয়ে ১৫৮ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলে স্বাগত জানিয়েছিলেন ধুন্ধুমার মারকাটারির এই ক্রিকেটকে। 

ক্রিকেট

আইপিএল

টি-টোয়েন্টি

ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ



মন্তব্যসমূহ